1. m_prodhan@yahoo.com : Mahabub Alam Prodhan : Mahabub Alam Prodhan
  2. bpcitaly@gmail.com : Md abdul Wadud : Md abdul Wadud
  3. rasel1391992@gmail.com : Rasel Ahmed : Rasel Ahmed
  4. currentshomoynews@gmail.com : shomoynews1 :
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৬ অপরাহ্ন

বাবা ছিলেন গরীব অসহায় মানুষের বন্ধু : ডাক্তার গোলাম রাব্বি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ জুন, ২০২০
  • ৫৯ বার পঠিত

ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ বারের সবচেয়ে সফল চেয়ারম্যান মরহুম আবি আবদুল্লাহ টুনু চৌধুরীর আজ ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী। মৃত্যু বার্ষিকীতে বাবার স্মৃতিচারণ করেছেন তার ছেলে ভোলার গরীবের ডাক্তার নামে পরিচিতো সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার গোলাম রাব্বি চৌধুরী সাক্ষর।

গোলাম রাব্বি সাক্ষর বলেন আজ আমার আব্বা মরহুম আবি আবদুল্লাহ টুনু চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৫ সালের এক রোজার দিনে আসরের পর ল্যাব এইড হাসপাতালের আইসিউতে আমাদের কে একা রেখে পরপারে চলে গেলেন। তিনি ছিলেন নিরহংকারী নির্লোভ এক মহানুভব মানবসত্তা। শিশুদেরকে তিনি অসম্ভব আদর করতেন। আমার মধ্যে যা ভাল, সবই তাঁর থেকে পাওয়া। ৪ দফার সর্বমোট ২৮ বছর ভোলা সদর উপজেলার অন্তর্গত ১নং রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে যখন সারাদেশে যৌথবাহিনী ধরপাকড় শুরু করে, সদর উপজেলার ১৩জন চেয়ারম্যানের মধ্যে আব্বু একমাত্র এলাকায় ছিলেন। এটা ছিল তার নৈতিক শুদ্ধতার দুঃসাহস।

আব্বা এত বছর চেয়ারম্যান, শহরের পুরাতন ব্যাবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম, সবাই ভাবত আমাদের ঢাকা শহরে বাড়ী গাড়ী অট্টালিকার প্রাচুর্য। কিন্তু সত্য হল এসবের কোন কিছুতেই আব্বার মোহ ছিল নাহ, তিনি আমাদের ৫ ভাইবোনকে লেখাপড়া করাতে যেয়ে দেদারছে জমি বিক্রি করেছেন কারণ আমাদের পারিবারিক ব্যাবসায়ে তখন আয়রোজগার সীমিত। খুব ছোটবেলায় দেখতাম গ্রামের মানুষ আমাদের শহরের বাড়ীতেতে এসে সুন্দর সোফাগুলো কাদা ময়লা লাগিয়ে দিত, আমার খুব খারাপ লাগত।

হয়ত দুপুরে আমরা সবাই আব্বুর সাথে খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি, আব্বু একদল লুঙ্গী পড়া মানুষকে নিয়ে খেতে বসে গেলেন। বাসার অন্যদের দুপুরের খাবার থাকবে কিনা সেদিকে তার খেয়াল থাকত নাহ। আব্বুর সামনে কোন রিক্সাওয়ালা বা শ্রমিক শ্রেনীর কাউকে তুমি বলার দুঃসাহসও আমাদের হত নাহ, ভয়ংকর ক্ষেপে যেতেন। খুব রাগ হত আব্বুর উপর, কেন গরীব মানুষগুলোর জন্য আব্বুর এত দরদ! কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে বুঝতে পারি, ধনী গরীব আমাদের মানুষের সৃষ্টি। যারা ধনী গরীবে পার্থক্য করে তারা সত্যিকারের ছোটলোক। তাদের গায়ের কাদা মাটিতে আমাদের সোফাগুলো নোংরা হলেও পরিশুদ্ধ হয়েছিল আমাদের চিন্তা চেতনা। তাইতো আজো ক্যাম্পাস ছেড়ে আসলেও ক্যান্টিনের ছেলেগুলা ভালোবেসে মোবাইলের টাকা খরচ করে আমার খোজ খবর নেয়, ঢাকা আসলে দেখা করতে চায়।

ক্যাম্পাস লাইফে তো অনেকের সাথে অজস্র রাত-দিন পার করেছি, আজ তারা মনে না করলেও এই স্বল্পশিক্ষিত ছেলেগুলো ঠিকিই তাদের রাব্বী ভাইকে মনে রেখেছে। সকল অপ্রাপ্তি আর অপূর্ণতা ম্লান করে দেয়ার জন্য এর চেয়ে বেশী কিছু আর কী লাগে? রাজনীতি থেকে সম্মান আর মানুষের ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু আশা করা অনুচিত, যারা এটাকে পেশা হিসেবে নিতে চাচ্ছেন তারা এটাকে ফ্যাশন হিসেবে নেন। অন্তত আমার মরহুম আব্বার জীবন আমাকে তাই শিক্ষা দিয়ে গেছে। আব্বার লাশ যখন আমরা ভোলার লঞ্চে উঠাই, তখন থেকে যে বৃষ্টি শুরু হয়, তা দুই তিনদিন অব্যাহত ছিল। এর মধ্যেই কাদামাটি মাখামাখি হয়ে যখন বিশাল স্কুল মাঠের ১ম জানাযায় তিল ধারনের জায়গা ছিল নাহ, আগত গ্রামবাসীর অবিরাম অশ্রুধারা আর শোকের মাতম, তখন বুঝতে পারি তার ক্ষুদ্রজীবনে তিনি কতটা সফল ছিলেন। আজ আমার পরিবার সহ রাজাপুরবাসীর দুঃস্বপ্নের রাত দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে এক বটবৃক্ষের অভাবে।

সবাই আব্বুর জন্য দোয়া করবেন মহান আল্লাহতায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করেন এবং আমরা যেন তাঁর দীক্ষাকে আঁকড়ে ধরে আলোকিত মানুষ হিসেবে শেষ নিঃশ্বাসটা ত্যাগ করতে পারি।

এদিকে সাবেক এই জনপ্রতিনিধি টুনু চৌধুরী কে মানুষ একজন শ্রেষ্ঠ বাবা হিসেবে উপাধি দিয়েছেন, তিনি তার প্রতিটি সন্তানকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে রেখে গেছেন।
তারা আজ যার যার সেক্টরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।

মরহুমের স্ত্রী মিসেস সালেহা খাতুন চৌধুরী, ভোলা মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদিকা এবং ভোলা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ সভানেত্রী এবং তৈয়বা খাতুন মডেল একাডেমির গভর্নিং বডির সভাপতি।

বড় মেয়ে কানিজ ফাতেমা চৌধুরী তুম্পা , বাংলাদেশ আর্মির কমিশন কোরে ছিল, পায়ে ব্যাথা পাওয়ায় ছেড়ে এসে বিএম কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করে এখন গৃহিণী এবং জামাতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তিনি সাবেক ভোলায় ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মেঝো মেয়ে ইসরাত জাহান চোধুরী সম্পা, এক সময় ভোলার সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ, অসংখ্য পুরষ্কার প্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী। ইডেন কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করে এখন গৃহিণী এবং উদ্যোক্তা। মেজো জামাতা জামাল উদ্দিন চৌধুরী মনপুরার বিখ্যাত চৌধুরী পরিবারের সন্তান, গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ছোট মেয়ে এডভোকেট নুসরাত জাহান চৌধুরী, সরকারি বিনোয়গ সংস্থার লিগ্যাল এডভাইজার এবং জামাতা ব্যারিস্টার কাজী ইব্রাহীম মোঃ আদনান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। মরহুমের বড় ছেলে ভোলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। ছোট ছেলে প্রকৌশলী গোলাম রহমান স্বাধীন চৌধুরী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে সদ্য বেড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

পুরনো সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০